হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো উপদেশ বা শিক্ষা শিশুর মনে স্থায়ী হয় না, যতক্ষণ না তা পিতামাতার আচরণ ও চরিত্রে মূর্ত আকারে প্রতিফলিত হয়। ঈমান শুধু কানে প্রবেশ করে না, বরং তা চোখ এবং হৃদয়ের মাধ্যমে হৃদয়ে প্রবেশ করে।
সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রক্রিয়ায় কিছু মৌলিক বিষয় রয়েছে যেগুলোতে পিতামাতা ও শিক্ষকদের বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত, যার বিবরণ নিম্নরূপ:
ধর্মীয় শিক্ষাগুলো শিশুদের বয়স, মানসিক স্তর ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা উচিত।
ধর্মীয় বিষয়ে শিশুদের প্রশ্ন ও সন্দেহের গুরুত্ব সহকারে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত এবং ফরজ ও ধর্মীয় বিধানের সঠিক কারণগুলো ব্যাখ্যা করা উচিত।
কেবল উপদেশ দিয়ে সন্তুষ্ট না থেকে এবং ধর্মীয় বিধানে অন্ধ, অবচেতন ও যান্ত্রিক অভ্যাস গড়ে তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ধর্মীয় শিক্ষায় বিশেষ করে পরোক্ষ ও অ-মৌখিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, এবং পিতামাতা ও শিক্ষকরা নিজেরা ব্যবহারিক উদাহরণ হওয়ার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেবেন।
শিশুদের মধ্যে প্রশ্ন করা, অনুসন্ধান ও অনুসন্ধিৎসা সৃষ্টি করতে হবে এবং তাদের প্রশ্নের উত্তর ভারসাম্যপূর্ণ ও চিন্তাভাবনা করে দেওয়া উচিত।
ধর্মীয় শিক্ষাকে মানুষের ব্যক্তিত্বের সকল দিক যেমন শারীরিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, মানসিক ও সামাজিক দিকের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।
শিশুদের উপর জোর করে ধর্মীয় শিক্ষা চাপিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং শুধু বাহ্যিক চাপের মাধ্যমে তাদেরকে 'ধার্মিক বানানোর' চেষ্টা করা উচিত নয়।
শিশুদের মধ্যে প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের রহস্য নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার ক্ষমতা তৈরি করতে হবে, যাতে তারা সৃষ্টির মধ্যে গভীরভাবে চিন্তা করে নিজেরাই সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভাবতে পারে।
ধর্মীয় নীতি ও আদর্শ ব্যক্তিত্বের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে, তবে এই পরিচয় শিশুদের বয়স, মানসিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।
পিতামাতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়া (বিশেষ করে রেডিও ও টেলিভিশন) এর ধর্মীয় শিক্ষার পদ্ধতিতে সামঞ্জস্য ও একরূপতা থাকা উচিত।
সর্বশেষে, এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, যদি পিতামাতা ও শিক্ষকদের কথায় এবং বাস্তব আচরণে বৈসাদৃশ্য থাকে, তবে এই অসামঞ্জস্য শিশুদের সঠিক ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুতর বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সূত্র: পিতামাতা ও সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা, পৃষ্ঠা ৪৩
আপনার কমেন্ট